৩১শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস’র বিচারক নিয়োগে উচ্চ আবেদন ফি কমানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদন

বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিগণ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী জজ হিসেবে যোগদান করেন। পূর্বে সহকারী জজদের ‘মুন্সেফ’ নামে অভিহিত করা হতো। আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন না করলে বিজেএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যায় না।
২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে ‘বিচার’ ক্যাডার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) থেকে আলাদা হয়ে যায়। জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের (জুডিসিয়াল অফিসার) নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করেন।
গত ১৮ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি. বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএসসি)-এর স্মারক নং-১০.০৩.০০০০.০০৩.৩১.০০১.২৫-৪৪, এর মাধ্যমে জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে “অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (১৮শ বিজেএস) পরীক্ষা, ২০২৫” অনলাইনে আবেদনপত্র জমার পরীক্ষার ফি- ১২০০/- (এক হাজার দুইশত টাকা) এনিয়ে অনেক আবেদপ্রার্থী উক্ত পরীক্ষার ফি অযৌক্তিক, মাত্রাতিরিক্ত বলে মন্তব্য করেছেন।

গত ২৮ আগস্ট ২০২৫খ্রি. চট্টগ্রামের কিছু আইনজীবী ও সাধারণ শিক্ষার্থী উক্ত পরীক্ষার ফি কমানোর ব্যাপারে মাননীয় চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএসসি), প্রধান উপদেষ্টা, সচিবালয়, ঢাকা, ও আইন উপদেষ্টা, আইন মন্ত্রনালয়, সচিবালয়, ঢাকা বরাবর এক হাজার দুইশত টাকার আবেদন ফি সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের জন্য ভোগান্তি তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন নাগরিক সমাজ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। গত ২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার রুদ্রসংবাদকে বিষয়টি নিশ্চত করেছে অ্যাডভোকেট অসীম শুভ। তারা জানান, অতীতে সরকারি চাকরির বেশিরভাগ পরীক্ষার আবেদন ফি ১১২ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি ধার্য করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে ফি কমানো জরুরি। অন্যথায় অনগ্রসর ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হবে।

তাদের দেওয়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ ফি হ্রাসের জন্য কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, ফি কমানো হলে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়বে এবং যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে সহায়ক হবে।

অ্যাডভোকেট অসীম শুভ বলেন, আমি ২০ তারিখ থেকে অনলাইনে ক্যাম্পেইন শুরু করেছি। সকলের সারা পেয়েছি। এখানে শুধু অ্যাডভোকেট নয়, এলএল, বি (অনার্স) ডিগ্রিধারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা ও অন্যান্য পেশাজীবীও রয়েছে। তাদের পক্ষে এত টাকা ফি দেয়াটা কষ্টকর। আমাদের দাবি হচ্ছে, পরীক্ষার ফি পুনর্বিবেচনা করে, যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করা হোক।

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin
Share on print

আরও পড়ুন